হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকার পর দেশে ফিরলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ নাবিক

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ বাংলাদেশি নাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে রওনা হয়ে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন। জাহাজের বাকি ১৪ জন নাবিক আরও কিছুদিন পর মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত ২৩ জুন রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের টার্মিনালে নাবিকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএসসির কর্মকর্তারা। আর বাইরে অপেক্ষারত স্বজনদের সঙ্গে দেখা হতেই সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবরুদ্ধ জীবনের রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম। দেশবাসী যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, মানসিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ ক্যাপ্টেন শফিকুল জানান, বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করে নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরেছেন।

যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন জানান, যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাচ্ছিল এবং পাশে অন্য জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে তারা জাহাজ ছেড়ে যাননি। জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, একদিন রাতে তাদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা ছয়টি টাগবোট মিলেও নেভানো যায়নি। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে তাদের জাহাজটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তাদের জাহাজ চালাতে হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় মাইন থাকায় সামান্যতম অসতর্কতা বা পথ বিচ্যুতিতেই বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে তারা নিরাপদে স্বদেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।

Related posts