সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গুঞ্জন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগম, তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ এবং এমপির প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম অভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগম এমপির বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। গত ১৭ই জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে এমপি জানিয়েছেন। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তার ভাষ্যমতে, গত ১৩ই জুলাই মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়।
তরুণী মরিয়ম বেগম ও তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার দিন তারা মগবাজারের ওই কার্যালয়েই ছিলেন। এমপির প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগমও ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন যে, তিনি এই বিয়ের বিষয়ে অবগত এবং এর বৈধতা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন যে, এমপি তাদের জানিয়েছেন ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ ও প্রচার করা হলো এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
