জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তাদুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং মাসিক চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, ওসি হিসেবে যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে অন্যতম আলমপুর ইউনিয়নের শিবপুর সোহেলীগ্রামের ক্ষুদ্র মুড়ি ব্যবসায়ী শুভ সাহা। তিনি জানান, গত ২ জুন দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ওসি মুক্তাদুল আলম কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে তার কারখানায় উপস্থিত হন। ম্যাজিস্ট্রেট কায়দায় পরিচালিত ওই অভিযানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুভ সাহার দাবি, থানায় নেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা দেওয়ার পরও ওসি তার কাছে নিয়মিত মাসিক চাঁদা দাবি করছেন। শুভ সাহা বলেন, তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন মানুষ এবং কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা চালিয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছেন। এর আগে কখনো পুলিশ তাকে এভাবে হয়রানি করেনি। এই ঘটনার গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, উপজেলার রাবেয়া বশরী নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন যে, সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর ওসি তাকে সাইবার আইনে মামলার ভয় দেখিয়েছেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ওসি তাকে ফোন করে জানান যে এ ঘটনায় মামলা হলে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এই কথোপকথনের কল রেকর্ড ভুক্তভোগীর কাছে সংরক্ষিত আছে।
এছাড়া তালসন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা রুমি খাতুন অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তার মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আদালতে মামলা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। রুমি খাতুনের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তাদুল আলম বলেন, ‘আমি ওই মুড়ির কারখানায় কোনো দিন যাইনি। ওকে আমি চিনিও না। ওসি তদন্ত সেখানে যেতে পারেন আর ওই ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে ওসির (তদন্ত) সঙ্গে কথা বলে চলে গেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’ এ বিষয়ে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেন, ওসি মুক্তাদুল আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১২: ২৫আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১২: ৪৫
