ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করায় শিক্ষার্থীদের নির্বাসনের মার্কিন সরকারি উদ্যোগ অসাংবিধানিক। বিচারক নোয়েল ওয়াইজ তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যাম্পাসে নিজেদের মতামত প্রকাশকারী অনাগরিকদের নির্বাসনের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা মূলত ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পত্রিকা ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’-এর করা মামলায় এই জয় এসেছে। পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, নির্বাসনের ভয়ে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের মতামত প্রকাশ করতে ভীত ছিলেন। বিচারক ওয়াইজ রায়ে লিখেছেন, সরকার বা তার নেতাদের প্রশংসা করার অধিকার থাকলেই কেবল বাকস্বাধীনতা থাকে না, বরং সমালোচনার অধিকারও থাকতে হবে।
বিচারক তার রায়ে বোস্টনের এক জেলা বিচারকের প্রায় এক বছর আগের একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন এবং ইসরায়েলের সমালোচনা করায় অনাগরিকদের নির্বাসনের লক্ষ্যবস্তু করা সংবিধান লঙ্ঘন। ওয়াইজ বলেন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমেরিকার গণতন্ত্রের ভিত্তি। তিনি ফার্স্ট ও ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্টের পরিপন্থী সরকারি নির্বাসন বিধানের কিছু অংশ বাতিল করেছেন।
বিচারক ওয়াইজ মার্চ ২০২৫ সালে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকারী এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা যারা করেছেন, তাদের ওপর এই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া চার্লি কার্কের সমালোচনাকারীদের ওপরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন। বিচারক সতর্ক করে বলেন, আজকের লক্ষ্যবস্তু যদি সমালোচনাকারী শিক্ষার্থীরা হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকার যে কোনো ভিন্নমতাবলম্বীকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এই রায়ের পর দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলির প্রধান সম্পাদক জর্জ পোরটিয়াস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এখন থেকে তাদের সংবাদপত্রের প্রতিবেদকদের নির্বাসনের ভয় নিয়ে কাজ করতে হবে না। মামলাটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’-এর আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আমেরিকায় বাকস্বাধীনতা কেবল সরকারের সমর্থক বা অনুগতদের জন্য নয়।
বিচারক তার রায়ে আরও বলেন, সরকারের এই কৌশল কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। অনাগরিক শিক্ষার্থীরা ভয়ে তাদের মতামত প্রত্যাহার করছেন, নিবন্ধ সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন এবং পরিচয় গোপন রাখতে চাইছেন। বিচারক স্পষ্টভাবে বলেন, অনাগরিকদেরও নাগরিকদের মতো একই ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট অধিকার রয়েছে। সরকার পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে যে অস্পষ্ট মানদণ্ড ব্যবহার করছে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

