যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে লড়বেন অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেট এবং তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ ও মানব পাচারের নতুন অভিযোগে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধের প্রেক্ষিতে শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার মায়ামির একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হয়ে ভাইদ্বয় এই প্রত্যর্পণ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আদালতে হাজির হওয়ার সময় টেট ভাইদের পরনে ছিল সাধারণ কয়েদিদের পোশাক এবং তাদের হাতে হাতকড়া ছিল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জেলা বিচারক নির্ধারণ করবেন যে, তাদের প্রত্যর্পণের আইনগত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না। ইউএস ম্যাজিস্ট্রেট লরেন লুইস এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী সোমবার নির্ধারণ করেছেন।

টেট ভাইদের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা প্রত্যর্পণ ঠেকানোর জন্য আইনি সব ধরনের উপায় অবলম্বন করবেন। তিনি এই নতুন অভিযোগগুলোকে একটি 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইনজীবী আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে এই গ্রেপ্তার হয়েছে, যা নিয়ে নেতৃত্বের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারের অনুমোদন তাদের ক্রিমিনাল ডিভিশনের নেতৃত্ব থেকেই দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, নতুন এই অভিযোগগুলো ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আনা হয়েছে। এতে চারজন নতুন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অভিযোগের তালিকায় ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, মানব পাচার এবং শিশু পর্নোগ্রাফি ও চরম পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আরও তিনজন ভুক্তভোগীর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বা তাদের আইনজীবীর সাথে কথা বলেননি। এছাড়া হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মামলায় জড়িয়ে পড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক এই ভাইরা ২০১৬ সালে রোমানিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালে সেখানে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছর তারা রোমানিয়া থেকে ফ্লোরিডায় চলে আসেন।

Related posts